📜 দরবার পরিচিতিAbout the Darbār
بسم الله الرحمن الرحيم

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের
ইতিহাস ও পটভূমি
History & Background
of Bishwa Zaker Manzil

একটি জীর্ণ কুঁড়েঘর থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের অবিশ্বাস্য যাত্রা

From a humble hut purchased for 8 Taka to one of the world's greatest spiritual centres

১৩৫৪
বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা
(১৯৪৭-৪৮ খ্রিষ্টাব্দ)
Founded in Bengali
Era 1354 (1947 CE)
৮৳
প্রথম জমি ক্রয়ের
মূল্য
Original land
purchase price
৪৫+
বছরের প্রচার-জীবন
ফরিদপুরীর
Years of propagation
by the founder
২৪/৭
দিনরাত চলমান
তরিকা তালিম
Round-the-clock
spiritual teaching
কোটি+
মুরিদ ও ভক্ত
দেশে-বিদেশে
Murids & devotees
worldwide

🕌প্রতিষ্ঠার পটভূমিOrigins of Bishwa Zaker Manzil

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত একটি বিখ্যাত ইসলামী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও দরবার শরীফ। নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় কমপ্লেক্স হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।

Bishwa Zaker Manzil is a renowned Islamic spiritual centre and Darbār Sharif located in Atroshi village, Sadarpur Upazila, Faridpur District, Bangladesh. Following the Naqshbandiyya Mujaddediyya Tariqa, this institution is recognised as one of Bangladesh's largest and most influential religious complexes.

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল — আল্লাহ ও রাসূলে পাক (সাঃ)-এর মহা দান, বিশ্ব মানবের জন্য খোদাপ্রাপ্তির প্ল্যাটফর্ম, আধ্যাত্মিক শিক্ষাকেন্দ্র। দেশের সর্বত্র থেকে এখানে মানুষ আসে। আসে আত্মোপলব্ধির তাড়নায়, আসে নিজেকে চিনিবার জন্য, আসে খোদাতায়ালাকে চিনিতে, জানিতে বা বুঝিতে। আজ শুধু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই নয় — পৃথিবীর সর্বত্র থেকেই লোক আসে।

Bishwa Zaker Manzil is a magnificent gift of Allah and His Messenger ﷺ — a platform for God-attainment for all humanity, a centre of spiritual education. People come from every corner of the country and from across the world — driven by a yearning for self-discovery and closeness to Allah.

তাহারা আসে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর মহব্বত অর্জনের জন্য, আসে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (সাঃ)-এর শাশ্বত প্রেমের শরাব পানের জন্য। এখানে যাহা কিছু হয়, সবই পাক কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক। শরীয়তের খেলাফ কিছুই নাই এখানে। They come to acquire the love of Allah and His Messenger ﷺ — to drink the eternal wine of Divine Love. Everything that takes place here is based on the Holy Qur'an and Sunnah. Nothing here contravenes the Shariat.

🏚️প্রথম দিনের আটরশি — অন্ধকারের চিত্রAtroshi on Day One — A Picture of Darkness

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী যেদিন প্রথম আটরশিতে পা রেখেছিলেন, সেদিন ছিল কোরবানীর ঈদের দিন। কিন্তু সেই ঈদের দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। লোকজন লাঙল লইয়া মাঠে যাইতেছে। নামাজ ছিল না, সমাজ ছিল না।

ধনী, মানী, জ্ঞানী, গুণী লোক ছিল না। গরু কোরবানী হইতো না। গরুর গোশতকে এই এলাকার মোসলমানেরা অস্পৃশ্য মনে করিত। ইসলাম কী — তাহারা জানিত না। পাশেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী। এই এলাকার মোসলমানগণ জমিদার বাড়ীর পূজায় অংশ গ্রহণ করিত, পূজার প্রসাদ খাইত। তাহারা হিন্দুয়ানী রীতিতে ভালোবাসিত। ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ তাহাদের কাছে অপরিচিত ছিল।

On the very first day Hazrat Khwajababa Faridpuri arrived in Atroshi — it was the day of Eid al-Adha. But the scene was far from festive. People were heading to the fields with ploughs. There were no prayers, no Islamic community. The local Muslims did not sacrifice cattle; they considered beef impure. They participated in Hindu landlords' religious festivals and ate their offerings. Islamic ideals were entirely unknown to them.

🌅 একটি দোয়া — একটি রূপান্তরের শুরু
সেই ঈদের দিন জনাব মহসীন উদ্দিন খান ও তদীয় অপর দুই ভাইকে লইয়া পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করিয়া খোদাতায়ালার নিকট এই দু'আ করিলেন: "হে খোদাতায়ালা! এই যে তিন/চার জন আমরা ঈদের নামাজ পড়িলাম। দয়া করিয়া তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।" মহান খোদাতায়ালার দয়ায় আজ এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

🌱জাকের ক্যাম্প থেকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলFrom Zaker Camp to Bishwa Zaker Manzil

হযরত কেবলাজান হুজুরের নির্দেশে বাংলা ১৩৫৪ সন হইতে এই আটরশি হইতে সত্য তরিকা প্রচার কাজ শুরু হয়। জনাব মহসিন খান ছাহেবের অতি ক্ষুদ্র একটি ছনের ঘর — যে ঘরে তিনি একটি বকনা বাছুর পালিতেন — সেই ঘর স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করেন। সেই ক্ষুদ্র ঘর হইতেই তরিকা প্রচারের কর্মসূচী শুরু হয়।

Under the command of Pir Keblajan, from Bengali 1354 (1947 CE) the work of propagating the true Tariqa began from Atroshi. Mohsin Khan Saheb voluntarily offered a tiny thatched hut — where he had kept a calf — as the first centre of spiritual propagation.

বাংলা ১৩৫৪ সন · ইং ১৯৪৭
Bengali 1354 · 1947 CE
সাপ্তাহিক জলসার সূচনা
Beginning of Weekly Gatherings

প্রতি সপ্তাহে একটি করিয়া জলসা করিতেন। উপস্থিত খোদাতলাশীদের তালিম দিতেন, সবক দিতেন। আল্লাহ ও রাসূল পাক (সাঃ)-এর মহব্বতপূর্ণ ওয়াজ নসিহত শ্রবণে সকলেই অশ্রুপাত করিত। প্রতিটি জলসাতেই প্রচুর ফেয়েজ ওয়ারেদ হইত।

৮ রশি, সাড়ে ৭ রশি, ১৪ রশি, আড়াই রশি, ব্রাহ্মণবাড়ী প্রভৃতি এলাকার জাকেরান ও আশেকানগণ মুষ্টি চাউল দিত। তৎকালে গরুও খুব সস্তা ছিল। জাকেরানদের দেওয়া মুষ্টি দ্বারা সাপ্তাহিক জলসা সম্পন্ন করিতেন।

এক বছর অন্তে · ইং ১৯৪৮
Within a Year · 1948 CE
মাত্র ৮ টাকায় "জাকের ক্যাম্প" প্রতিষ্ঠা
"Zaker Camp" Founded for Just 8 Taka

ধীরে ধীরে হেদায়েতের কলেবর বৃদ্ধি পায়। খোদাতালাশীদের ভিড় জমে। ফলে এক বছর অন্তে পার্শ্ববর্তী গ্রাম হইতে মাত্র আট (৮) টাকার বিনিমেয়ে একটি কুঁড়ঘর ক্রয় করেন। কুঁড়ঘরটির নাম দেওয়া হয় "জাকের ক্যাম্প।"

জাকের ক্যাম্পের ছাউনী ছিল ছনের এবং বেড়া বা বেষ্টনী ছিল সুপারী গাছের খোলের। আমার এক পুরাতন মুরিদ, নাম কালু লক্কর — সেই আমাকে সুপারী গাছের খোল সরবরাহ করিত।

পরবর্তী বছরগুলো
Following Years
দেশময় হেদায়েতের আলো ছড়িয়ে পড়া
Light of Guidance Spreading Nationwide

প্রথমে নিকটস্থ এলাকা থেকে, তৎপর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন, থানা, জেলা থেকে, এমনকি দেশের সর্বত্র থেকে দলে দলে মানুষ আসা শুরু করে। তাহাদেরকে তরিকা দিতাম, খোদাপ্রাপ্তির তালিম দিতাম।

ছনের ঘরের জায়গায় ক্রমে টিনের তৈরী ঘর এবং বেড়াও দেওয়া হয় টিন দ্বারা। তখন ক্যাম্পের নাম দেওয়া হয় "বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।" এরই মধ্যে হেদায়েতের নূর পৌঁছায় দেশে-বিদেশে সর্বত্র।

১৯৭৭ সাল
1977 CE
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা
Bishwa Zaker Manzil Alia Madrasa Founded

বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন — যেখানে ১ম শ্রেণি থেকে কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মাদ্রাসার ছাত্রদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

১৪ অক্টোবর ১৯৮৯
14 October 1989
জাকের পার্টি প্রতিষ্ঠা
Founding of Zaker Party

১২ই রবিউল আউয়াল — পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন — খাজাবাবা নিজেই বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে জাকের পার্টির ফলক উন্মোচন করেন। দলটি গঠনের লক্ষ্য হলো জাগতিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সমন্বয়ে আদর্শ ইসলামী সমাজ গঠন।

১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫
10 September 1995
পরিচালনা-পদ্ধতি গ্রন্থ স্বাক্ষর
Administration Manual Signed

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী 'বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতি' নামে ১৩৩ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ স্বাক্ষর করেন। এতে তিনি তাঁর জীবনের বিস্তারিত বিবরণ, দরবারের পরিচালনার নির্দেশাবলী এবং আধ্যাত্মিক তালিমের পূর্ণ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।

১ মে ২০০১ · রাত ১টা ৩৫ মিনিট
1 May 2001 · 1:35 AM
ওফাত লাভ
Returned to his Creator

হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা হাশমতউল্লাহ ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ১৮ বৈশাখ ১৪০৮ বঙ্গাব্দ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পবিত্র রওজা শরীফ দরবার প্রাঙ্গণেই অবস্থিত — যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত জিয়ারতে আসেন।

তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর দুই পুত্র — পীরজাদা মাহফুযুল হক মুজাদ্দেদী ও পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী — দরবার শরীফের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমান · আজ
Present Day
আজকের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল
Bishwa Zaker Manzil Today

আজকের বহু হর্ম্যরাজিতে বা অট্টালিকায় সুসজ্জিত প্রাণমুখর এই বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দেখিতে অনেকটা শহরের মতো। ইহার ক্ষেত্র যে কত বড় হইবে তাহা আল্লাহপাকই জানেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হইতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে — আসে বিদেশ থেকেও।

✨দরবারের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহUnique Features of the Darbār

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এখানের সমস্তই মানব কল্যাণের জন্য। এই বহুমুখী প্রতিষ্ঠানে আছে আলীয়া মাদ্রাসা, সোনালী ব্যাংকের শাখা, পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট (প্রস্তাবিত) একটি হাসপাতাল (নির্মাণাধীন), সম্পূর্ণ পাথর নির্মিত দ্বিতল একটি মসজিদ (নির্মাণাধীন) এবং জাকেরানদের থাকিবার জন্য বহু অট্টালিকা।

Bishwa Zaker Manzil is a vital religious and social institution for the nation. Within this multifaceted complex: an Alia Madrasa, a Sonali Bank branch, Post Office, Telephone Exchange, a proposed 600-bed hospital (under construction), a double-storied all-stone Mosque (under construction), and numerous residential buildings for visiting Zakerāns.

🎓
আলিয়া মাদ্রাসা
১ম শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত পাঠদান। ধর্মীয় ও বৃত্তিমূলক উভয় শিক্ষার সমন্বয়।
🏥
হাসপাতাল (নির্মাণাধীন)
৬০০ শয্যাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত হাসপাতাল — দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য।
🕌
পাথরের মসজিদ
সম্পূর্ণ পাথর নির্মিত দ্বিতল মসজিদ — নির্মাণাধীন; এটি নির্মিত হলে অনন্য স্থাপত্যকীর্তি হবে।
🏦
সোনালী ব্যাংক শাখা
দরবার প্রাঙ্গণে সোনালী ব্যাংকের শাখা — লক্ষ লক্ষ আগন্তকের আর্থিক সুবিধার জন্য।
📮
পোস্ট অফিস ও টেলিফোন
পোস্ট অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ — যোগাযোগ সুবিধার জন্য।
🏘️
আবাসিক অট্টালিকা
দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ জাকেরানদের থাকার জন্য বহু অট্টালিকা।

📖তালিম ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার পদ্ধতিMethod of Teaching & Spiritual Education

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল প্রতিদিন শত শত, হাজার হাজার তালেবে মাওলাগণ আসেন। তাহাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় — শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাত তথা পূর্ণাঙ্গ ইসলাম সম্পর্কে। দিবা-নিশি ২৪ ঘণ্টা চলে এই প্রশিক্ষণ কর্ম।

Every day, hundreds and thousands of seekers of the Divine arrive at Bishwa Zaker Manzil. They receive training in Shariat, Tariqa, Haqiqat and Marefa — the full spectrum of Islamic knowledge. This training continues 24 hours a day, 7 days a week.

যাহারা জাগতিক সমস্যা লইয়া আসে, সেই সমস্যা সমাধানের উপদেশ দানের মাধ্যমেই তাহাদেরকে আধ্যাত্মিকতা শিক্ষা দেওয়া হয়; খোদাতায়ালার দিকে পথ দেখানো হয়। তাহাদের প্রত্যেকের জিহ্বাতেই এক ফোটা করিয়া আধ্যাত্মিক মধু প্রদান করা হয় — যে অমিয় মধুর মিষ্টি স্বাদ ও আকর্ষণে পুনঃপুনঃ তাহারা আসে।

রাত ৩টা থেকে রাত ১১টা — অবিরাম তালিমের ধারা3 AM to 11 PM — Unbroken Stream of Teaching

নিশির শেষ যাম অর্থাৎ রাত ৩টা হইতে পরবর্তী দিনগত রাত ১১টা পর্যন্ত চলে শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাতের তালিম। এই বিশাল মেহমানখানা পরিচালনা, দিবা-নিশি তালিম বা প্রশিক্ষণ দান; সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা — ইহার সবই সম্ভব হয় কারণ এই দরবার আল্লাহ ও রাসূলের স্বীকৃত দরবার।

এই দরবার এমনই এক দরবার — যেখানে সুখের খানা খাওয়াইয়া, আরামের বিছানায় শোয়াইয়া খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বের তালিম দেওয়া হয়। শুধু খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্ব সম্পর্কেই নয়; তালিম (শিক্ষা) চলে পরিপূর্ণ সত্য ইসলামের উপরে, সত্য তরিকার উপরে; প্রশিক্ষণ চলে শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাতের উপরে — দিন-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ব্যাপিয়াই।

🌙
তাহাজ্জুদ ও ফজর
রাত ৩টা থেকে শুরু — তাহাজ্জুদ নামাজের পর মোরাকাবা ও জিকির; ফজরের নামাজ জামাতে আদায়।
📿
জিকির ও মোরাকাবা
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিয়মিত জিকির ও ধ্যান — মন ও কলবকে আল্লাহর দিকে নিমজ্জিত করার সাধনা।
📖
ওয়াজ ও নসিহত
প্রতিদিন শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও দীক্ষামূলক বয়ান।
🍽️
বিশাল লঙ্গরখানা
প্রতিদিন অগণিত মেহমানকে খাবার পরিবেশন — কত লোক আসিবে, কত মেহমানকে খাবার দেওয়া হইবে তার হিসাব নাই।
কাহার সাধ্য এই বিশাল মেহমানখানা পরিচালনা করে? প্রতিদিন কত লোক আসিবে, কত মেহমানকে খাবার পরিবেশন করা হইবে — তাহার হিসাব নাই। এত লোকের এক সন্ধ্যার তরকারীও কোন উপশহরের মিলে না। অথচ যখনই যত মেহমান আসে, তাহাদের সকলেরই খাবারের ব্যবস্থা থাকে। অত্যন্ত নিয়ম-শৃঙ্খলার সাথে চলে এই মেহমানখানা। Who could manage such a vast guesthouse? There is no way of counting how many people will arrive each day or how many guests will be fed. The vegetables for a single evening for so many people would surpass even a small town's supply — yet whenever guests arrive, provisions are always there. This guesthouse runs with remarkable order and discipline.

⚔️বিরোধ ও সংগ্রামের ইতিহাসHistory of Opposition & Struggle

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের এই দীর্ঘ প্রচার কার্য নিষ্কণ্টক ছিল না। ছিল শত বাধা, শত বিরোধ। ছিল সত্য তরিকার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং এই তরিকা প্রচারক হিসেবে হযরতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার।

স্থূল দৃষ্টিসম্পন্ন আলেম-ওলামা ও তথাকথিত পীরেরা যুক্তফ্রন্ট করিয়া, সভা-সমিতি-সিম্পোজিয়াম করিয়া হযরতকে কাফের ফেতোয়া দিল। কত লিফলেট, বিজ্ঞাপন ছাড়িল। কিন্তু সত্য প্রচারে তিনি ছিলেন অবিচল।

The long years of propagation at Bishwa Zaker Manzil were not without obstacles. There were hundreds of barriers and oppositions. Narrow-minded scholars and so-called pirs joined forces, held conferences and symposiums, declared Hazrat a kafir, distributed leaflets and advertisements against him. But he remained unwavering in preaching the truth.

কিন্তু সত্য প্রচারে আমি ছিলাম অবিচল। ফলে, আল্লাহপাকের ইচ্ছায় সত্যেরই জয় হইল। আজ আসমুদ্র হিমাচল ব্যাপিয়া মানুষ সত্যকে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছে। তাই মানুষ আসে দলে দলে, সত্যের অমৃত শরাব পানের নেশায়। But I remained unmoved in preaching the truth. In the end, by the will of Allah, truth prevailed. Today, from ocean to mountain, people have come to realise the truth — and so they come in multitudes, drawn by the intoxicating draught of truth's immortal wine.

🏛️বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও প্রভাবPresent Institutional Form & Influence

আজকের বহু হর্ম্যরাজিতে ও অট্টালিকায় সুসজ্জিত প্রাণমুখর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দেখিতে অনেকটা শহরের মতো। জাকের ক্যাম্পের সেই ৮ টাকায় কেনা কুঁড়েঘর আজ একটি বিশাল আধ্যাত্মিক মহানগরীতে পরিণত হয়েছে।

Today's Bishwa Zaker Manzil — adorned with numerous grand buildings — resembles a city. The humble 8-taka hut of Zaker Camp has transformed into a vast spiritual metropolis.

📅
বার্ষিক ওরস শরীফ
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ওরস — ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজন; দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ।
🌍
বৈশ্বিক বিস্তার
কোটির অধিক মুরিদ — বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই তরিকার অনুসারী।
📚
নসিহত গ্রন্থমালা
২৩ খণ্ড আধ্যাত্মিক গ্রন্থ — শরীয়ত থেকে মারেফাত পর্যন্ত পূর্ণ আধ্যাত্মিক জ্ঞান।
🕊️
রওজা শরীফ
হযরতের পবিত্র মাজার দরবার প্রাঙ্গণে — প্রতিদিন হাজারো ভক্ত জিয়ারত করেন।
🗳️
জাকের পার্টি
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাজনৈতিক দল — আদর্শ ইসলামী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।
🎓
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
আলিয়া মাদ্রাসা — ১ম শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত; ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়।

🤲পরিচালনার দায়িত্ব সম্পর্কে হযরতের বক্তব্যThe Founder on His Role

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই বিশাল মেহমানখানার পরিচালনার দায়িত্ব আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর। তিনি নিজেকে মনে করতেন তাঁহার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ)-এর পক্ষ হইতে মাত্র একজন তত্ত্বাবধায়ক।

এই বিশাল মেহমানখানা পরিচালনা, দিবা-নিশি তালিম বা প্রশিক্ষণ দান; সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা — ইহার সবই সম্ভব হয় কারণ এই দরবার আল্লাহ ও রাসূলের স্বীকৃত দরবার। ইহার পরিচালনার দায়িত্ব আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের উপরে। আমি তাঁহার পক্ষ হইতে একজন তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। Managing this vast guesthouse, providing round-the-clock training and instruction, maintaining orderly and disciplined management — all of this is possible because this Darbār is one recognised by Allah and His Messenger ﷺ. The responsibility of its management rests with my Pir Keblajan Hazrat Khwajababa Inaetpuri (R.A.). I am merely a supervisor on his behalf.

আজকের এই শান-শওকতময় ও প্রাণমুখর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল একদিনে গড়িয়া উঠে নাই। ইহার পিছনে আছে এই মিসকিনের দীর্ঘ ৪৫ বছরের প্রচার-জীবন। আছে বিরোধী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শক্তির মোকাবেলা। ইহা ব্যতীতও আছে আটরশিতে আসিবার পূর্বে পীরের কদমে প্রায় দীর্ঘ ৪০ বছরের অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা, অনাহার-অনিদ্রা, সুকঠিন ব্রত, অতিশয় শ্রম, চরম দারিদ্র্য ও কঠোর রেয়াজতের পরীক্ষা উত্তরণ।

Today's glorious and vibrant Bishwa Zaker Manzil was not built in a single day. Behind it lies 45 years of this humble one's life of propagation — facing opposition from individuals, groups and forces. And before arriving at Atroshi, there were nearly 40 years of immeasurable sacrifice at the Pir's feet — fasting, sleeplessness, extreme hardship, labour, poverty and rigorous spiritual trials.

📍অবস্থান ও কীভাবে আসবেনLocation & How to Reach

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত। ফরিদপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার। বার্ষিক ওরস শরীফ উপলক্ষে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়।

Bishwa Zaker Manzil is situated in Atroshi village, Sadarpur Upazila, Faridpur District, Bangladesh. It is approximately 15–20 kilometres from Faridpur district headquarters. During the annual Urs Sharif, events extend across a 20-kilometre radius.

🚌
ঢাকা থেকে
ঢাকার গাবতলী বা সায়েদাবাদ থেকে ফরিদপুরগামী বাসে চড়ুন। ফরিদপুর থেকে সিএনজি বা অটো রিকশায় সদরপুর হয়ে আটরশি।
🚂
ট্রেনে
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা বা রাজবাড়ী স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে সড়কপথে আটরশি পৌঁছানো যায়।
🗺️
ঠিকানা
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, আটরশি, সদরপুর, ফরিদপুর, বাংলাদেশ।
📅
ওরস শরীফ
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বার্ষিক ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন।
আজকে এখানে খোদাঅন্বেষীরা আসে। আসে দলে দলে। হাজারে হাজারে। বছরের বিভিন্ন সময়ে জলসায় যোগ দেয় লাখে লাখে। আগত খোদাতালাসীরা প্রাণ ভিরয়া খোদাতায়ালাকে ডাকে, মহাধুমধামে জেকের করে, আল্লাহ-রাসূলের মহব্বত দেলে পয়দা করে। যাবার সময় মহব্বতের নিদর্শন স্বরূপ চোখে পানি এবং দেলে অনাবিল শান্তির অনুভূতি লইয়া যায়। Today, seekers of the Divine come here — in multitudes, in thousands. Hundreds of thousands attend the gatherings throughout the year. The seekers call upon Allah with all their hearts, perform Zikr with great fervour, kindle the love of Allah and His Messenger ﷺ within their souls — and when they depart, they carry tears of love in their eyes and a boundless peace within their hearts.