═══════════════════════════════════════════════════ -->
☪️ প্রতিষ্ঠাতার জীবনীFounder's Biography
بسم الله الرحمن الرحيم

বিশ্বওলী হযরত শাহসূফী
খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ ছেঃ আঃ)
Bishwa Wali Hazrat Shahsufi
Khwajababa Faridpuri

🌟
হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ)
Hazrat Maulana Shahsufi Khwajababa Faridpuri (R.A.)
নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার মহান অলি · বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা
Grand Wali of the Naqshbandiyya Mujaddediyya Tariqa · Founder of Bishwa Zaker Manzil
বিশ্বওলী আটরশির পীর নকশবন্দীয়া তরিকা Bishwa Wali Pir of Atroshi Naqshbandiyya Tariqa
🌱
প্রকৃত নাম
Real Name
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ হাশমতউল্লাহ (রহ.)
Hazrat Mawlana Muhammad Hashmatullah (Rahimahullah)
📍
জন্মস্থান
Birthplace
পাকুরিয়া গ্রাম, শেরপুর, জামালপুর
Pakuria village, Sherpur, Jamalpur
🕊️
ওফাত লাভ
Passed Away
১ মে ২০০১ · রাত ১টা ৩৫ মিনিট · ১৮ বৈশাখ, ১৪০৮ বঙ্গাব্দ
1 May 2001 · 1:35 AM · 18 Baishakh, 1408 Bengali Era
👤
পিতার নাম
Father's Name
শাহ আলীমউদ্দীন (মুজাদ্দেদী তরিকার অনুসারী)
Shah Alimuddin (follower of Mujaddedi Tariqa)
🤲
পীর / মুর্শিদ
Pir / Murshid
হযরত খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (কুঃ)
Hazrat Khwaja Yunus Ali Inaetpuri (R.A.)
📿
তরিকা
Tariqa
নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া
Naqshbandiyya Mujaddediyya
🕌
দরবার প্রতিষ্ঠা
Darbār Founded
বাংলা ১৩৫৪ সন (ইং ১৯৪৭) — আটরশি, ফরিদপুর
Bengali 1354 (1947 CE) — Atroshi, Faridpur

🌱জন্ম ও শৈশবBirth & Early Life

হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) জামালপুর জেলার শেরপুর থানার পাকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শাহ আলীমউদ্দীন — যিনি সেই এলাকার সর্বাধিক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি এবং নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।

Hazrat Maulana Shahsufi Khwajababa Hashmatullah Faridpuri was born in Pakuria village, Sherpur Thana, Jamalpur District. His father, Shah Alimuddin, was the most respected person in that area and a devoted follower of the Naqshbandiyya Mujaddediyya Tariqa.

শিশু বয়সেই তিনি মাতৃহারা হন। তবুও পারিবারিক আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে উঠে তিনি আরবি ও ফার্সি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে মহান খোদার প্রতি গভীর আকর্ষণ ছিল।

He lost his mother in early childhood. Growing up in a spiritually nurturing family environment, he received education in Arabic and Persian. From his earliest years he showed a deep longing for closeness to the Almighty.

✨পীর কেবলাজানের সাথে পরিচয় ও দীক্ষাMeeting the Pir & Initiation

জামালপুরের বগাইদ নিবাসী মাওলানা নইমুদ্দীন মুনসী সাহেব — পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কুঃ)-এর অতি মহব্বতের মুরিদ ছিলেন। তিনি সব সময়ই জজবা-হালাতে থাকিতেন এবং বাতেনী জ্ঞানসম্পন্ন মজ্জুব পাগল ছিলেন। তিনি যাহা বলিতেন, তাহা সত্য হইত।

Maulana Naimuddin Munshi of Bogaid, Jamalpur — a deeply devoted Murid of Pir Keblajan Hazrat Khwajababa Shahsufi Inaetpuri (R.A.) — was always in a state of spiritual ecstasy. Whatever he said would come true.

একদিন মাওলানা নইমুদ্দীন মুনসী হযরতের পিতা জনাব শাহ আলীমউদ্দীনকে ডাকিয়া আনেন এবং পীর কেবলাজান হুজুরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। পীরের অমায়িক ব্যবহার ও আধ্যাত্মিক বাণীতে মুগ্ধ হয়ে পিতা তদীয় কদম মোবারক বাড়িতে রাখার জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। পীর কেবলাজান রাজি হইলেন এবং তাদের বাড়িতে তশরিফ রাখলেন।

Maulana Naimuddin Munshi arranged a meeting between Hazrat's father and the Pir. Deeply moved by the Pir's gracious conduct and spiritual teachings, the father earnestly invited the Pir to grace their home. The Pir accepted.

তাহার দীপ্তময় চেহারা দর্শনে আমি সেদিন মুগ্ধ হইয়াছিলাম। আমার মনে হইতেছিল, আসমান হইতে যেন দলে দলে ফেরেশতারা আমাদের বাড়িতে অবতরণ করিতেছে — যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ, যাহা কোনদিনই ভুলিবার নয়। Beholding his radiant countenance, I was overwhelmed that day. It felt as though angels were descending in hosts from the heavens — a celestial atmosphere that can never be forgotten.

বহু আলাপ-আলোচনার মধ্যে পীর কেবলাজান হযরতকে এবং তাঁর বড় ভাই মাওলানা আলতাফ হোসেন (রহ.)-এর দিকে ইশারা করিয়া পিতাকে বলিলেন, "বাবা, আপনার ঐ দুইটি ছেলে আমাকে দেন।" পিতা দ্বিরুক্তি না করিয়া তৎক্ষণাৎ তাঁদের উভয়কে পীর কেবলার পাক কদমে সোপর্দ করিলেন। সেই দিন হইতে তিনি পীর কেবলাজান হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ)-এর মুরিদ হইলেন।

During the visit, Pir Keblajan pointed to Hazrat and his elder brother Maulana Altaf Hossen (R.A.) and said, "Give me those two sons of yours." Without hesitation, the father immediately entrusted both to the sacred feet of the Pir. From that day, Hazrat became a Murid of Pir Keblajan.

🌟 বিশেষ ঘটনা
পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) শেরপুরের অজ পাড়াগাঁ পাকুরিয়ায় মাত্র একবারই তশরিফ রেখেছিলেন — এবং সেটি শুধুমাত্র এই দুই ভাইকে নিজের কাছে নেওয়ার জন্য।

🕐দীর্ঘ চল্লিশ বছরের কঠোর সাধনাForty Years of Rigorous Devotion

পীর কেবলাজান হুজুরের কদমে নজরানা দিয়া একেবারেই কপর্দকশূন্য হইলেন। কেবলাজানের কদমে নিরলস খেদমত করিতে থাকিলেন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এক এক করিয়া সকলেই তাঁহাকে ত্যাগ করিল। তাঁহার আর আপন বলিয়া কেহই রহিল না — উড়িবার পাখা নাই, ধরিবার ডাল নাই। একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তাঁহার পীর কেবলাজান।

He surrendered everything at the feet of Pir Keblajan and became completely penniless. He devoted himself to tireless service. Relatives and friends abandoned him one by one. His only support remained Pir Keblajan — no wings to fly, no branch to hold.

সর্বহারা অবস্থায় পীরের দরবারে অনাহার-অনিদ্রাসহ কঠোর খেদমত করিয়া জীবনের চল্লিশটি বছর কাটাইলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হাতে-কলমে শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাতের সম্পূর্ণ তালিম গ্রহণ করিলেন।

🍽️
অনাহার ও অর্ধাহারে — অর্ধচামচ ভাত, তৎসঙ্গে সামান্য তরকারী; অধিকাংশ দিনে মাত্র একবার খাবার। পীর কেবলাজান তাঁকে তেমন খাইতে দিতেন না।
😴
অনিদ্রায় কাটানো রাত — দিনরাত অবিরাম খেদমত; মোরাকাবায় (ধ্যানে) ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় নিমগ্ন থাকতেন।
🏋️
সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম — খাদ্য কম, কাজ বেশি; দুর্বল শরীরেও মাটি কাটা থেকে সকল কাজ করিতে হইত।
🚶
ছয় মাইল দূরের খুকনী হইতে টুকরি ভর্তি বাসন আনিতে হইত; যমুনার তীরে স্থলচর ঘাট হইতে গরুর গাড়িতে ধান-চাউল আনিতে হইত।
💸
পীরের আদেশে সমুদয় জমি-জমা, সহায়-সম্পদ বিক্রয় করিয়া পীরের কদমে অর্পণ — একেবারে নিঃস্ব হইয়া খোদার পথে ব্রতী হইলেন।
🏘️
আত্মীয়স্বজন সকলে ত্যাগ করিয়াছে; সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন — তবুও পীরের দরবারে নিরলস খেদমত অব্যাহত।
একদিন পীর কেবলাজান আমাকে বলিলেন, "বাবা, তুমি যদি খোদাতায়ালাকে পাইতে চাও, তবে ত্যাগী হও।" বিদায় লইয়া বাড়িতে গিয়া আব্বাজানকে পীর কেবলাজানের উক্ত উপদেশের কথা বলিলে তিনি আমাকে বলিলেন, "বাবা, বড়ই কঠোর হুকুম। তোমাকে সর্বস্ব ত্যাগ করিতে হইবে।" "Son, if you wish to attain Allah the Almighty, you must become one who renounces." When I went home and relayed this to my father, he said: "Son, this is a very stern command. You must give up everything."

পীর কেবলাজান আমাকে প্রায়শই কলকাতায় যাওয়ার নির্দেশ দিতেন, বলিতেন, "কলকাতায় যাও, চাকুরী খোঁজ।" পীরের নির্দেশে কলকাতায় যাইতাম। কিন্তু আমিতো ছিলাম কপর্দকশূন্য। তাই ক্ষুধাপেটে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়া বেড়াইতাম। কে দিবে আমাকে চাকুরী? ফেলে দরবারে ফিরিয়া আসিতাম। পুনরায় কেবলাজান কলকাতায় যাওয়ার আদেশ করিতেন। এমিনভাবে বহুবার কলকাতায় গিয়াছি — মূলতঃ এই আটরশিতে আসিবার লাইনটাই ছিল কলকাতায়।

🌙ঐশী স্বপ্ন ও অলৌকিক ঘটনাবলীDivine Dreams & Miraculous Events

রাসূল (সাঃ)-এর দিদার — এক অপূর্ব স্বপ্ন (কলকাতায়)Witnessing the Prophet ﷺ — A Wondrous Dream in Kolkata

কলকাতায় মামাতো ভাই সামাদ ছাহেবের বাসায় অবস্থানকালে একরাতে এক তাৎপর্যবহ স্বপ্ন দেখিলাম। স্বপ্নে শুনিলাম, লোকে বলাবলি করিতেছে — রাসূলে পাক (সাঃ) কলকাতা শহরে সার্কুলার রোডে আসিতেছেন।

সৃষ্টির সেরা মানব, রাহমাতুল্লিল আ'লামীনকে দেখিবার বাসনা কাহার না থাকে? তাহাকে এক নজর দেখিবার জন্য লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুলের ভিড় পড়িল। সার্কুলার রোডের এক পার্শ্বে আমিও গিয়া দাঁড়াইলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখিলাম, অতীব চমৎকার নূতন মডেলের একটি মোটরযানে রাসূলে পাক (সাঃ) আসিতেছেন। সকলেই তাঁহার পবিত্র বদনের দিকে অপলক নেত্রে তাকাইয়া রহিয়াছে।

মোটর গাড়িটি আমার নিকট পর্যন্ত আসিয়া থামিয়া গেল। দয়াল নবী (সাঃ) আমাকে হাতের ইশারায় ডাক দিলেন। আমি নিকটে উপস্থিত হওয়া মাত্রই তিনি বলিলেন, "বাবা, তোমার উপর গযব আসিতেছে; তুমি তওবা কর।" আমি দয়াল নবীর কদম ধরিয়া মহান খোদাতায়ালার নিকট তওবা করিলাম। বলিলাম, হে খোদা! আমি যত গোনাহ করিয়াছি — তোমার নিকট দয়াল নবী (সাঃ)-এর অছিলায় তওবা করিতেছি।

রাসূলে পাক (সাঃ) বলিলেন, "আল্লাহ তোমাকে মাফ করিয়া দিয়াছেন। গযবও ভুলিয়া নিয়াছেন। তবে গযবের সামান্য একটু যাহা দুনিয়াতে আসিয়া পড়িয়াছে — তাহা তোমাকে ভোগ করিতে হইবে।" নিশির শেষ ভাগ বা রহমতের সময় এই স্বপ্ন দেখিলাম। আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।

অসুস্থতা ও পীরের আগমন — সংজ্ঞাহীন অবস্থায় স্বপ্নIllness & the Pir's Spiritual Arrival

স্বপ্নের তিন দিনের মাথায় আমার শরীর খারাপ বোধ হইতে লাগিল। মামাতো ভাইকে বলিলাম, "ভাইজান, আমি যদি সংজ্ঞাহীন হই, আমার অক্ষ যাহাতে হাঁটুর উপরে না উঠে — সেই দিকে একটু খেয়াল রাখিও।" জোহরের পর সমস্ত শরীর কালো বর্ণ ধারণ করিল। আসরের সময় কম্প দিয়া জ্বর আসিল। মাগরিবের সময় আমি সংজ্ঞা হারাইয়া ফেলিলাম।

সংজ্ঞাহীন অবস্থায় স্বপ্নে দেখিলাম — কেবলাজান হুজুর হ্যারিসন রোড হইতে হায়াত খান লেনের দিকে আসিতেছেন। হযরত কেবলাজান ৬ নং হায়াত খান লেনে যে ঘরে আমি শয্যাগত ছিলাম, সেই ঘরে প্রবেশ করিয়া আমার মাথার দিকে বসিলেন।

আমি আবেগাকুল হইয়া বলিলাম, "হুজুর, এই কলিকাতা শহরে আমার কে আছে? আমি যদি অসুস্থাবস্থায় এমন পড়িয়া থাকি, কে আমাকে দেখিবে?" পীর কেবলাজান বলিলেন, "বাবা, এই যে আমি তোমাকে দেখিতে আসিয়াছি। আমিতো তোমার নিকটেই আছি। তোমার কোন চিন্তা নাই। তুমি এক ঘণ্টার ভিতরেই সুস্থ হইবে।" তিনি আরও বলিলেন, "কুইনাইন এমন" নামক একটি ওষুধ আছে। উহার একটি ফোটা তুমি সেবন করিও। ইহাতে তুমি পূর্ণ সুস্থ হইবে।

কুইনাইন এমন — খোদার কুদরতে ওষুধ প্রাপ্তিThe Miraculous Medicine — Quinine Emon

স্বপ্নের পরই মামাতো ভাই সামাদ ছাহেবকে "কুইনাইন এমন" সংগ্রহ করিতে বলিলাম। সামাদ ছাহেব এবং আরও কেয়কজন তৎক্ষণাৎ বাহির হইলেন। বিভিন্ন ডিসপেন্সারি ও ফার্মেসীতে খুঁজিলেন — কোথাও পাইলেন না। এমনকি ঐ সকল ফার্মেসীর লোকেরা এই নামে কোনো ওষুধের সন্ধানও দিতে পারিলেন না।

জনাব সামাদ ছাহেব তাহার স্টাফসহ সকাল ১০টা হইতে বেলা ৩টা পর্যন্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজের গবেষণা বিভাগের ল্যাবরেটরী তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিলেন। বেলা তিনটার সময় ভাবিলেন, "আবার খুঁজিয়া দেখা যাক।" এই চিন্তা করিয়া ল্যাবরেটরীর নীচ তলায় একটি কক্ষে আসিয়া একটি কাঠের বাক্ষ লক্ষ্য করিলেন।

সেই বাক্ষ খুলিয়া দেখা গেল — একটি বড় বোতলের আড়ালে ছোট একটি শিশি। শিশির গায়ে লেখা: "কুইনাইন এমন।" সামাদ ছাহেবতো যারপরনাই খুশী হইলেন। ওষুধ লইয়া বাসায় আসিলেন। সেই শিশির এক ফোটা ওষুধ খাইয়া আমি পূর্ণ সুস্থ হইলাম। শিশিতে ছিল ৭০ ফোটা ওষুধ। বাকী ৬৯ ফোটা ৬৯ জন বিভিন্ন রোগীকে দিয়াছিলাম — তাহারা সকলেই সুস্থ হইয়াছিল।

🤝আটরশিতে আসার কাহিনী ও পারিবারিক সম্পর্কJourney to Atroshi & Family Ties

উল্লিখিত ঘটনার পর হায়াত খান লেনের সকলেই আমাকে একটু ভিন্ন নজরে দেখিতেন। এই ঘটনার পর পরই জনাব মহসিন খান ছাহেবের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়। তিনিও আমার পীর কেবলাজানের দীক্ষা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে পীর কেবলাজানের নির্দেশে আমার মিঞা ভাই হযরত মাওলানা আলতাফ হোসেন (রহ.) ছাহেবের কন্যাকে জনাব মহসিন খান ছাহেবের সাথে বিবাহ দেই। অতঃপর পীর কেবলার পরবর্তী এক নির্দেশে মহসিন খান ছাহেবের ভাইয়ের কন্যাকে আমি বিবাহ করি। এমিনভাবে আটরশিতে জনাব মহসিন খান ছাহেবের সহিত আমার আত্মীয়তার সম্পর্কও গড়িয়া উঠে। ইহাই ছিল আমার আটরশি আসিবার সংক্ষিপ্ত কাহিনী।

Following these events, my friendship with Mohsin Khan Saheb deepened. He also took initiation from my Pir. Under the Pir's guidance, family ties were formed with the Mohsin Khan household at Atroshi. This, in brief, was the story of how I came to Atroshi.

🕌আটরশিতে তরিকা প্রচারের শুভসূচনাBeginning of Tariqa Propagation at Atroshi

পীর কেবলাজান শত সহস্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার কষ্টিপাথরের যাচাই করিয়া এই মিসকিনকে খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞানের যোগ্য বলিয়া মনে করেন এবং আধ্যাত্মিক নেয়ামতে পরিপূর্ণ ডালা মাথায় দিয়া এই অজ পাড়াগাঁ আটরশিতে পাঠাইয়া দেন সত্য তরিকা ও সত্য ইসলাম প্রচারের জন্য।

কেবলাজান হুজুরের নির্দেশে বাংলা ১৩৫৪ সন হইতে এই আটরশি হইতে সত্য তরিকা প্রচার কাজ শুরু করেন। জনাব মহসিন খান ছাহেবের একটি অতি ক্ষুদ্র ছনের ঘর ছিল — যে ঘরে তিনি একটি বকনা বাছুর পালিতেন। আমি তরিকা প্রচারের স্বার্থে সেই ঘরটি চাহিলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করেন। সেই ক্ষুদ্র ঘর হইতে তরিকা প্রচারের কর্মসূচী শুরু হয়।

After testing this humble one through hundreds of trials, Pir Keblajan deemed him worthy of bearing the knowledge of God-attainment and sent him to Atroshi to propagate the true Tariqa. From Bengali 1354 (1947 CE), the work of propagating the true Tariqa began here. Mohsin Khan Saheb voluntarily gave a small thatched hut where he kept a calf — this became the first centre of propagation.

🏚️
প্রথম দিনের আটরশি
প্রথম যেদিন আসেন — সেদিন ছিল কোরবানীর ঈদ। লোকেরা লাঙল লইয়া মাঠে যাইতেছে। নামাজ নেই, সমাজ নেই। পাশেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী — মুসলমানরা পূজায় অংশ নিত। ইসলামী আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিল এই গ্রাম।
📖
সাপ্তাহিক জলসা
প্রতি সপ্তাহে জলসা করিতেন। আল্লাহ ও রাসূল পাক (সাঃ)-এর মহব্বতপূর্ণ ওয়াজ-নসিহতে সকলেই অশ্রুপাত করিত। প্রতিটি জলসায় প্রচুর ফেয়েজ ওয়ারেদ হইত।
🌾
মুষ্টি চাউলের কাফেলা
৮ রশি, সাড়ে ৭ রশি, ১৪ রশি এলাকার জাকেরান মুষ্টি চাউল দিত। সেই মুষ্টি দ্বারা সাপ্তাহিক জলসা সম্পন্ন করিতেন। ধীরে ধীরে হেদায়েতের কলেবর বৃদ্ধি পায়।
🏠
মাত্র ৮ টাকায় জাকের ক্যাম্প
এক বছর অন্তে মাত্র ৮ টাকায় একটি কুঁড়ঘর ক্রয় করেন — নাম রাখা হয় "জাকের ক্যাম্প"। সময়ের বিবর্তনে সেই জাকের ক্যাম্পই আজকের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।
জাকের ক্যাম্পের ছাউনী ছিল ছনের এবং বেড়া বা বেষ্টনী ছিল সুপারী গাছের খোলের। আমার এক পুরাতন মুরিদ, নাম কালু লক্কর — সেই আমাকে সুপারী গাছের খোল সরবরাহ করিত। ধীরে ধীরে আগন্তকদের ভিড় বৃদ্ধি পায়; ফলে ক্যাম্পের ক্ষেত্রও বাড়াইতে হয়। The thatch of Zaker Camp was made of straw and the fence of areca palm husks. One of my old Murids — Kalu Lokkor by name — supplied the husks. Gradually the crowds grew, and the camp had to expand accordingly.

📚রচনাবলী ও উত্তরাধিকারWritings & Legacy

হযরত শাহসূফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) বিষয়ভিত্তিক ২৩ খণ্ড নসিহত গ্রন্থমালা রচনা করিয়া গিয়াছেন। এছাড়াও 'বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতি' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন — যা ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ তারিখে স্বাক্ষরিত এবং ১৩৩ পৃষ্ঠাবিশিষ্ট। এই গ্রন্থে তিনি নিজের জীবনকাহিনী ও দরবার পরিচালনার সম্পূর্ণ নির্দেশাবলী লিপিবদ্ধ করিয়াছেন।

Hazrat Shahsufi Faridpuri (R.A.) authored the 23-volume Nasihat Granthamala — thematic spiritual writings on Shariat, Tariqa, Haqiqat and Marefa. He also wrote 'Administration of Bishwa Zaker Manzil' (133 pages, signed 10 September 1995), detailing his life story and complete guidance for the Darbār.

📖
নসিহত গ্রন্থমালা
বিষয়ভিত্তিক ২৩ খণ্ড — আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অমূল্য ভাণ্ডার।
🏛️
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল
৮ টাকার কুঁড়েঘর থেকে ৪২ বর্গ কিলোমিটারের আধ্যাত্মিক মহাকেন্দ্র।
🎓
আলিয়া মাদ্রাসা
১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত — ১ম শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত।
🗳️
জাকের পার্টি
১৯৮৯ সালের ১৪ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবীর পবিত্র দিনে প্রতিষ্ঠিত।
🌍
বৈশ্বিক প্রভাব
কোটির অধিক মুরিদ ও ভক্ত — বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর সিলসিলা বিস্তৃত।
🕊️
রওজা শরীফ
১ মে ২০০১ ইন্তেকাল — দরবার প্রাঙ্গণেই পবিত্র মাজার শরীফ।
আজকের এই শান-শওকতময় ও প্রাণমুখর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল একদিনে গড়িয়া উঠে নাই। ইহার পিছনে আছে এই মিসকিনের দীর্ঘ ৪৫ বছরের প্রচার-জীবন এবং আটরশিতে আসিবার পূর্বে পীরের কদমে প্রায় দীর্ঘ ৪০ বছরের অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা, অনাহার-অনিদ্রা, সুকঠিন ব্রত, অতিশয় শ্রম, চরম দারিদ্র্য ও কঠোর রেয়াজতের পরীক্ষা উত্তরণ। Today's glorious Bishwa Zaker Manzil was not built overnight. Behind it lies 45 years of propagation and, before arriving at Atroshi, nearly 40 years of immeasurable sacrifice, fasting, sleeplessness, extreme hardship, labour, poverty and rigorous spiritual trials at the feet of the Pir.